নারায়ণগঞ্জ ভূমি কার্যালয় আকস্মিক পরিদর্শন করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সময়মত উপস্থিত না থাকা এবং অনুপস্থিত থেকেও হাজিরা খাতায় ‘আগাম স্বাক্ষর’ করার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।
সোমবার সকালে প্রতিমন্ত্রী নগরীর খানপুরে ভূমি কার্যালয় পরিদর্শনে যান। সেখানে তিনি গড়হাজির এবং ‘আগাম স্বাক্ষরকারী’ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দেন।
এই এলাকায় একই চত্বরে পাশাপাশি সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার এবং ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের কার্যালয় রয়েছে।
সকাল ৮টার কয়েক মিনিট আগে কার্যালয়ে ঢোকেন প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। কিন্তু ৯টার পরও বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী কার্যালয়ে না এলে তিনি হাজিরা খাতা পর্যবেক্ষণ করেন।
অন্তত ২০ মিনিট পর খবর পেয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিনাত ফৌজিয়া সেখানে উপস্থিত হন। তারও কিছুক্ষণ পর আসেন ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার অংমাচিং মারমা।
তখন প্রতিমন্ত্রী দুই কর্মকর্তার কাছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে জানতে চান। একইসঙ্গে তিনি এ বিষয়ে তদন্ত করবেন বলে জানিয়ে গত এক সপ্তাহের সিসিটিভি ভিডিও পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রিনাত ফৌজিয়া প্রতিমন্ত্রীকে জানান, একজন সহকারী কমিশনার মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং অপরজন উপজেলা পরিষদে সরকারি অনুষ্ঠানে আছেন। তবে, অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিতির বিষয়টিকে তদন্ত করবেন বলে জানান তিনি।
তখন প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিন দুই কর্মকর্তাকে বলেন, “কোনো কারণে ১০ মিনিট দেরি হতে পারে, তাই বলে তিনটা সার্কেলের কেউ থাকবে না! এটা খুবই হতাশাজনক। আমাদের প্রধানমন্ত্রী আমাদের আগে অফিসে যান।”
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমার অফিসিয়াল নম্বরের হোয়াটসঅ্যাপে নানা অভিযোগ আসে। কিন্তু এখানের (নারায়ণগঞ্জ) অভিযোগের মাত্রাটা বেশি। সময়মত অফিসে না আসার যে প্রবণতা বাংলাদেশে আছে, সেটি এখানেও রয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে বিরক্তি লেগেছে, যখন আমি আসি দুটি সার্কেল অফিসে কেউই ছিলেন না। কিন্তু ৩১ তারিখের সকলের স্বাক্ষর আগেই দেওয়া আছে। এটা গ্রহণযোগ্য না, এটা জালিয়াতি।”
এ ভূমি কার্যালয়ে সেবা প্রদানের মানসিকতার অভাব দেখেছেন মন্তব্য করে হেলাল উদ্দীন বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর যে আদর্শ, উদ্দেশ্য তা এখানে এসে সামঞ্জস্যপূর্ণ পাইনি। আমরা তো ব্যবস্থা নেব কিন্তু মানুষকে সেবা দেওয়ার যে মানসিকতা এটা আসতে হবে। ইচ্ছাশক্তি থাকলে সময়মত আসাটা কষ্টের কিছু না। সময়মত নিজের কাজ করাটা কিন্তু রাষ্ট্রের প্রতি দয়া না, এটা আমাদের দায়িত্ব। এজন্যই রাষ্ট্র আমাদের রেখেছে।”
পরিদর্শনকালে ভূমি কার্যালয়গুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার বিষয়টিও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, কয়েকজন নারী কর্মকর্তা একই সঙ্গে প্রশাসনিক ও বিচারিক দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য লিখুন
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো * চিহ্নিত।