Saturday, 18 July 2026 | রবিবার, ২০২৬ জুলাই ০৫, ০৫:৫৯ অপরাহ্ন

কুমিল্লা বাগমারা প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণচেষ্টাকারি কে কুপিয়ে হত্যার পর ৯৯৯-এ ফোন দাওয়া সেই নারির মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন
নিজস্ব প্রতিবেদন

আপনাদের সদয় অবগতি, ও বহুল প্রচারের মাধ্যমে বাংলাদেশ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে সুবিচার পাওয়ার জন্য আমাদের এই সাংবাদিক সম্মেলন। আমি কুমিল্লা জেলার লালমাই উপজেলার ১নং বাগমারা উত্তর ইউনিয়ের দত্তপুর পূর্বপাড়া গ্রামের প্রবাসী সুমন চৌধুরী রাসেল ও থানা কর্তৃক আটককৃত আমার মাতা ঝুমনা আকারের বড় সন্তান ইরা। আমি নবম শ্রেণিতে পড়তে আছি। আমরা ২ বোন এক ভাই। তার মধ্যে আমি সবার বড়। আমার বাবা যেহেতু প্রবসী, সেই সুযোগে ঐ একই গ্রামের এনায়েত হোসেন বাহার নামক নারী লোভী, লম্পট বিভিন্নভাবে আমার মা কে কু প্রস্তাব দেয়া অবস্থায় কোনো ভাবেই স্বা_©K হইতে পারে নাই। বার বার আমার মাতা লম্পট বাহারের কুপ্রস্তাবের কারনে ঐ গ্রামের বিভিন্ন সরদানক্ষণ ও এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তি বর্গ কে অবগত করে সালিশের প্রার্থীও হয়েছিল। কিন্তু সমাজের সাহেব সর্দাররা লম্পটের সহপাঠীদের ভয়ে এই বিষয়ে কোনো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে নাই বিধায় ঐ লম্পটের দিন দিন এই বিষয়ে সাহস বাড়তে থাকে। কোনো ভাবেই আমার মাকে সে তার জালে ফেলিত পারিতেছিল না। কিন্তু সে বিভিন্নভাবে আমার মাতাকে উত্যক্ত করে আসিতেছিল। এই বিষয়ে আমার পরিবার কোন বিচার না পেয়ে কুমিল্লা সি. পি. সি ২-র‍্যাব-১১. এর নিকট একটি মৌখিক অভিযোগ করে ঐ অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে ঐ সকল কাজের জন্য র‍্যাব অফিসে ডেকে আনা হয়। এবং সেসহ তার আরো কয়েকজন বন্ধু মিলে মুচলেকা প্রদান করে যে আমার মা কে আর সে উত্যক্ত করবে না। কিন্তু নারী লোভী লম্পট বাহার কিছুতেই খেন্ত হয় নাই- সে কেবল সুযোগ খুজছিল কীভাবে আমার মাকে সে ধর্ষণ করবে। সে তার সহযোগীদের বলতো, যেই ভাবেই হোক একদিন না একদিন সে আমার মা কে ধর্ষণ করেই ছাড়বে। বিগত ২৭/০৬/২৬ ইং রোজ শনিবার, বাড়ি খালি থাকায় এই সুযোগে বাসায় কেহ না থাকায় লম্পট বাহার গোপনে আমাদের বাড়িতে গিয়ে আমাদের ঘরে প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করে। আমার মায়ের উপর হিংস্র বাঘের মতো ঝাপিয়ে পড়ে আর ধর্ষণ Kivi জন্য জোড় পূর্বক চেষ্টা করে। এমতাবস্থায়, আমার মা ইজ্জত বাঁচানোর জন্য তার সাথে অনেক জোড়া- জুড়ি করে। অনেক ধস্তাধস্তি হয়। এঅবস্থায় কোনো ভাবেই আমার মা আত্মরক্ষা করতে পারছিল না। আমার মা তার থেকে বাঁচার জন্য অনেক চেষ্টা করে যাচ্ছিল। কোনো ভাবেই তার থেকে ইজ্জত রক্ষা করিতে পারিতেছিল না। বহু চিৎকার করলেও একা বাড়ী বিধায় কেহ তার চিৎকরে শুনতে পারে নাই। আমার মা তার ধর্ষিত জীবন হইতে রক্ষা পাওয়ার জন্য তাৎক্ষনিক অসচেতন অবস্থায় হাতের কাছে যা ছিল তা দিয়ে এলোপাথারী ধর্ষণকারীকে আঘাত করে। এরপর আমার মা তার ইজ্জত-রক্ষা করে। ধর্ষণকারীকে আমার মা হত্যার বা প্রাণনাশের উদ্দেশ্য নিয়ে আঘাত করেনি ধর্ষনের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করতে।


কিন্তু সেই অনিচ্ছাকৃত আঘাতে অঘটন ঘটে যায়। অবশেষে আমার মা বাধ্য হয়ে ৯৯৯ কল দিয়ে নিজেই পুলিশকে এ ঘঠনা জানান। এবং পুলিশ তাকে কাস্টারীতে নেন। আমার পিতা বিদেশে, আমার মাতা পুলিশ হেফাজতে আমি সহ আমার ছোট দুই ভাই বোন আমরা অসহায় অবস্থায় আছি। আমাদের ভবিষ্যৎ কি হবে আমরা তা জানি না। তবে একজন চরিত্রবান নারী তার নিজের ইজ্জত রক্ষা করার জন্য তার নিজ গৃহেও নিরাপত্তা পায়নি। আইন প্রয়োগকারী সকল সংস্থার কাছে আমার প্রশ্ন, আমাদের দেশে নারীরা তাদের ইজ্জত আর কীভাবে রক্ষা করবে তার নিজের গৃহেও রক্ষা পায়নি। এই ঘটনাকে বিভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য লম্পট বাহারের লোকেরা আপপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে। তাই আজকে আমি এই সাংবাদিক সম্মেলন করে প্রকৃত ঘটনা জন মহল কে অবগত করাসহ প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহনের অনুরোধ করছি। আশা করি একজন নারী নিজের গৃহে ইজ্জত রক্ষা করার জন্য এবং বাচার জন্য চেষ্টা করার কারনে হওয়া এই অঘঠন হইতে আমার মাকে আল্লাহ পাক রক্ষা করবেন। আমার মা তার নিরাপত্তা বা সম্মান রক্ষায় তাৎক্ষনিক তা করে। নিজের ইজ্জত বা সম্মান বাঁচাতে আত্মরক্ষা করা ইসলামে সম্পূর্ণ জায়েজ এবং ফরজ। সম্মান রক্ষার লড়াই করতে গিয়ে আক্রমনকারী নিহত হলেও আত্মরক্ষা করা নারীর জন্য বৈধ, তবে এর বদলে আত্মহত্যা করা কবিরা গুনাহ। ১। তবে আমার মা তার ইজ্জত হারিয়ে আত্মহতা করা কী উচিত ছিল? ২। আমার মা তার ইজ্জত রক্ষার্থে ঐ তাৎক্ষনিক সময়ে আর কী করতে পারতো? ৩। সারা জীবন ধর্ষণের বিচার চাওয়ার জন্য থানায় পুলিশের কাছে যেতো, আদালতে আদালতে ঘুরতো? ৪। আমরা সারা জীবন ধর্ষিতার সন্তান হয়ে বাঁচতাম? ৫। সমাজে মাথা নিচু করে থাকতাম? সবাই আমাদের বলতো ধর্ষির্তার সন্তান, পুলিশ আত্মারক্ষায় নিজেকে বাচাতে গুলি করে, তবে আমার মা কী দোষ করেছে? আমার প্রশ্ন আপনাদের কাছে, প্রশাসনের কাছে, সারা দেশের সুশীল সমাজের কাছে, আদালতের কাছে, দেশের মানীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের কাছে। সকলের কাছে দুই হাত জোড় করে আমার আকুল আবেদন আমার মায়ের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।

কপিরাইট © 2026 jibonkantho.com