রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ায় যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক এবং দুটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দুই দিনের এই সফরের চুম্বক অংশ নিয়ে বিশেষ একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।
ভিডিওটির আবহসঙ্গীত হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বাংলাদেশের গান ‘মহাজাদু’, যা সম্প্রতি কোক স্টুডিও বাংলার মারফতে তুমুল জনপ্রিয় হয়েছে হাবিব ওয়াহিদ ও মেহরনিগরি রুস্তমের (তাজিকিস্তান) কণ্ঠে। বাউল সাধক দুরবীন শাহের শিষ্য গীতিকবি খোয়াজ মিয়ার লেখা এ গানটি বাংলার বাউল ঐতিহ্য ও ফারসি কবিতার ফিউশনে তৈরি করা।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল ৯টার দিকে আনোয়ার ইব্রাহিমের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়। প্রকাশের মাত্র পাঁচ ঘণ্টার মধ্যেই ভিডিওটি ১০ লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে এবং সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক শোরগোল তুলেছে।
২ মিনিট ৪০ সেকেন্ডের এ ভিডিওতে দুই দেশের সরকারপ্রধানের বৈঠক, মধ্যাহ্নভোজ, সাংস্কৃতিক আয়োজনসহ নানা কর্মসূচি তুলে ধরা হয়েছে। পুরো ভিডিওতে ‘আমার বন্ধু মহাজাদু জানে’ গানটি ব্যবহার করা হয়েছে, মাঝে একটি বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত তুলে ধরা হয়েছে।
পোস্টে আনোয়ার ইব্রাহিমকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বলতে শোনা যায়, অবশ্যই, যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশ এবং এখানে (মালয়েশিয়ায়) থাকা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সংকট সমাধানের চেষ্টা করব।
‘একইসঙ্গে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের কার্যালয় এবং আসিয়ানের মাধ্যমে আমরা মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করব, যাতে এই সমস্যার আংশিক সমাধান করা যায়।’
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্য তুলে ধরার সময়ও আবহ সঙ্গীত হিসেবে ‘মহাজাদু’ বাজতে থাকে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠনের চার মাস পর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে রোববার মালয়েশিয়া পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দুই দিনের সফর শেষে সোমবার তিনি চীনের তালিয়ান শহরে গেছেন।
মালয়েশিয়ার প্রশাসনিকরাজধানী পুত্রাজায়ায় সোমবার যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জিয়া পরিবারের সঙ্গে পুরনো সম্পর্কের কথা তুলে ধরে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ‘আমরা সৌভাগ্যবান যে, আপনার প্রয়াত বাবা ও মায়ের সঙ্গে আমাদের পরিচয় ছিল। আমি তাকে (তারেক রহমানকে) আমার প্রথম অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছি—যখন আমি একজন যুবনেতা হিসেবে মৌচাক ক্যাম্পে তার বাবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলাম।’
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আর তৎকালীন উপ-প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আপনার প্রয়াত মায়ের সঙ্গেও বেশ কয়েকবার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে আমার দেখা হয়েছিল।
‘এর চেয়েও বড় কথা হলো, ভাই তারেক রহমান এবং তার পরিবার চরম কষ্ট ও সংগ্রাম সহ্য করেছেন। তিনি নিজের দেশের মানুষকে গভীরভাবে ভালোবাসেন এবং তাদের স্বাধীনতা ও উন্নতির পক্ষে নিজের আদর্শে সবসময় অবিচল থেকেছেন।’