প্রতিবেদক - নিজস্ব প্রতিবেদন | সোমবার, ২০২৬ Jun ২২, ০৫:১৩ অপরাহ্ন
ঘটনার ৩ মাস ২৬ দিনের মধ্যে ধর্ষণ মামলায় ফাঁসির রায়
ঘটনার ৩ মাস ২৬ দিনের মধ্যে ধর্ষণ মামলায় ফাঁসির রায়
ঘটনার ৩ মাস ২৬ দিনের মধ্যে ধর্ষণ মামলায় ফাঁসির রায়

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজারে চার বছর বয়সী শিশু তাবাচ্ছুমকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি আবু তাহের (৩৫)-কে ফাঁসির আদেশ দিয়েছে আদালত। একইসঙ্গে তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।ঘটনা সংঘটিত হওয়ার পর ১১৬ দিনের (৩ মাস ২৬ দিন) মধ্যে মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় ঝিনাইদহের আদালতে অনন্য নজির হিসাবে দেখছেন স্থানীয়রা।

সোমবার (২২ জুন) বেলা ১২টার দিকে ঝিনাইদহ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সালেহুজ্জামান আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে আদালত জরিমানার টাকা আসামির সম্পত্তি বিক্রি করে আদায় করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।

এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বাদেডিহি গ্রামে চিপস ও জুস কিনে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে শিশু তাবাচ্ছুমকে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে প্রতিবেশী ভাড়াটিয়া আবু তাহের। শিশুটি চিৎকার করতে গেলে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে পাশের একটি বিদ্যালয়ের সেপটিক ট্যাংকে লুকিয়ে রাখে।
পরদিন পুলিশ আবু তাহেরকে কুষ্টিয়া শহরে তার ভাইয়ের ভাড়া বাসা থেকে গ্রেফতার করে। তদন্ত শেষে গত ২৬ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কালীগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেন। গত ১৬ জুন মামলার চার্জ গঠন, ১৭ জুন সাক্ষ্য গ্রহন এবং ২১ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে সোমবার রায় ঘোষনার দিন ধার্য্য করা হয়। 

রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী হিসাবে ছিলেন এ্যাডভোকেট আকিদুল ইসলাম ও আসামি পক্ষের রাষ্ট্রনিযুক্ত (স্টেট ডিফেন্স) আশরাফুল ইসলাম মামলা পরিচালনা করেন। ১৬ জনের সাক্ষ্য এবং আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে আদালত সর্বোচ্চ সাজার রায় দেন।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এ্যাডভোকেট আকিদুল ইসলাম জানান, মাত্র ১১৬ দিনে এই রায় ঘোষণার মাধ্যমে ঝিনাইদহের বিচার ব্যবস্থায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হলো। আইনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বেড়ে গেল।

শিশু তাবাচ্ছুমের বাবা নজরুল ইসলাম –মা হালিমা খাতুন এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত আসামীর মৃত্যুদন্ড কার্যকরের দাবি জানান।

মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো * চিহ্নিত।